1. admin@coxtimes.com : admin :
শিরোনাম :
সচেতনতায় পুলিশ মাঠে…. করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়লেও ঈদগাঁওতে বাড়েনি মানুষের মাঝে সচেতনতা ঈদগাঁওর জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠ পর্যায় ইউএনও ছয় দফা দাবীতে সিবিআইইউ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ইসলামাবাদে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলাঃনগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ! পশ্চিম টেকপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক শহর পুলিশ ফাঁড়ি কক্সবাজার এর সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাঁও প্রেস ক্লাবের জরুরী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে পরিবেশ আন্দোলনের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। ঈদগাঁওর বাঁশঘাটায় তিনটি দোকান সিলগালা বাঁশখালী ছনুয়ার মানুষের যোগাযোগ সড়কের বেহাল দশা অবসানের পথে ইসলামাবা‌দের আ‌লো‌চিত জবর মুল্লুক হত্যা মামলার আসামী‌দের রিমা‌ন্ডে নি‌তে গ‌ড়িম‌সি পু‌লি‌শের ! ঈদগাঁও বাজা‌রে সড়‌কের উপর দোকান নির্মাণ, ভূ‌মি অ‌ফি‌সের নি‌ষেধাজ্ঞা ইসলামের প্রচার-প্রসারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি: শেখ হাসিনা।

ঈদগাঁওতে অবৈধ যন্ত্র তন্ত্র গ্যাস ব্যবসা-দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  • আপডেট টাইম: Sunday, December 27, 2020
  • 94 বার পড়া হয়েছে

মোঃ কাউছার ঊদ্দীন শরীফ,ঈদগাঁওঃ

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে সরকারি নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করেই বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।

রবিবার ২৭ শে ডিসেম্বর বিকালে ঈদগাঁও কলেজ গেট বাজার এলাকায় মায়ের দোয়া গ্যাস বিতান নামক দোকানের ভিতরে ও সামনে এ যন্ত্র তন্ত্র গ্যাস সিলিন্ডার দেখা যায়।

জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলা কলেজ গেট এলাকায় সরকারি নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করেই বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। এমনকি ক্রোকারীজ দোকানসহ কাপড়ের দোকানেও এখন চলছে গ্যাস সিলিন্ডারের জমজমাট ব্যবসা। প্রশাসনের কোন ধরনের তদারকি না থাকায় লাইসেন্সবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা যেন দিনদিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঈদগাঁও বাস স্টেশন বাজার থেকে শুরু করে কলেজ গেইট পর্যন্ত, ডিসি সড়কের শুরু থেকে বঙ্গিম বাজার পর্যন্ত, মাছ বাজার থেকে শুরু করে বাঁশঘাটা সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মুদির দোকান, তেলের দোকান, পানের দোকান, ঝুপড়ি, চায়ের দোকান এমনকি ওষুধের দোকানেও অবাধে গ্যাস ও সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। দোকানগুলোর ২য় তলায় লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে এ ব্যবসা। লাইসেন্স আছে এমন গ্যাস ও দাহ্য পদার্থ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য বাজারের দোকানে দোকানে সিলিন্ডার সরবারহ করছেন। অধিকাংশ দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। কিছু দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র টাঙানো হলেও তা অকেজো ও মেয়াদোত্তীর্ণ।নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুত স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও। এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স, জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধানও রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪-এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে বলা হয়েছে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি গ্যাস মজুদ করা যাবে না। একই বিধিতে ৭১নং ধারায় বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি রাখতে হবে। এই আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর দুই বছর ও অনধিক ৫ বছরের জেল, ৫০ হাজার টাকা দন্ড এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও ছয় মাস পর্যন্ত কারাদন্ডেরও বিধান রয়েছে।

সিলিন্ডার গ্যাস স্থাপনা প্রাঙ্গনে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বাতাসের উৎস থাকা যাবে না। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে পান- চা-দোকান থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন স্টোরেও পাওয়া যায় এ সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল। কিন্তু ঈদগাঁও বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে নয় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অনেকের লাইসেন্স নাই। তবে আইনের বিশেষ ফাঁক ফোকর থাকায় তা কাজে লাগাচ্ছেন এসব ক্রোকারীজ ব্যবসায়ীরা। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার বোতলে মেয়াদ উর্ত্তীণের্র তারিখও লেখা নেই।

উল্লেখ্য গত ৪ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহতে গ্যাস ক্রসফিলিং বিস্ফোরণের ৫ দিন পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই শ্রমিক। ঘটনার ২৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ রহস্যময় কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ বেবস্থা না নেয়ায় এ অবৈধ গুদাম গড়ে তুলার পেছনে কতৃপক্ষের অসাধু কর্মকর্তাদের হাত থাকতে পারে বলে বদ্ধমূল ধারণা করছে ক্ষুদ্ধ জনগণ।

কলেজ গেট এলাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন,ঈদগাঁওর কলেজ সংলগ্ন গেস ক্রস ফিলিংয়ের অবৈধ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে দুইজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর পর থেকে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। একলেজ গেইট বাজারের আশেপাশে মসজিদ মাদ্রাসা সহ রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার মাঝে যন্ত্র তন্ত্র অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা করাই যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ অবৈধ বাণিজ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টি মূলক শাস্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি।

অভিযুক্ত মায়ের দোয়া গ্যাস বিতান মালিক ফারুকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,দীর্ঘদিন থেকে চট্টগ্রাম থেকে গ্যাস নিয়ে এসে আমি এখানে গ্যাস বিক্রি করে আসছি, কোন সময় প্রশাসন বা কেউ আমাকে বাধা দেয়নি।আমার,অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স আছে,জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র টাকার অভাবে নিতে পারি নাই।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-ইন্সপেক্টর শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন,মায়ের দোয়া গ্যাস বিতানকে ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ফায়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।২০২০ থেকে ২০২১ সালের ফায়ার লাইসেন্স নেনি তিনি।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, যেসব দোকানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স,জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সনদ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস বিক্রি হচ্ছে শীঘ্রই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ঐসব দোকানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Customized BY NewsTheme