1. admin@coxtimes.com : admin :
শিরোনাম :
সচেতনতায় পুলিশ মাঠে…. করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়লেও ঈদগাঁওতে বাড়েনি মানুষের মাঝে সচেতনতা ঈদগাঁওর জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠ পর্যায় ইউএনও ইসলামাবাদ ইউনিয়ন আ,লীগের উদ্যোগে ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় পদ পদবীর বিষয়ে অসনি সংকেট ছয় দফা দাবীতে সিবিআইইউ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ইসলামাবাদে গভীর রাতে সশস্ত্র হামলাঃনগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ! পশ্চিম টেকপাড়া সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক শহর পুলিশ ফাঁড়ি কক্সবাজার এর সাথে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাঁও প্রেস ক্লাবের জরুরী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে পরিবেশ আন্দোলনের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত। ঈদগাঁওর বাঁশঘাটায় তিনটি দোকান সিলগালা বাঁশখালী ছনুয়ার মানুষের যোগাযোগ সড়কের বেহাল দশা অবসানের পথে ইসলামাবা‌দের আ‌লো‌চিত জবর মুল্লুক হত্যা মামলার আসামী‌দের রিমা‌ন্ডে নি‌তে গ‌ড়িম‌সি পু‌লি‌শের !

এসএসসি’র ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম: Friday, April 23, 2021
  • 65 বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিলম্ব ফি ছাড়া এসএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তার সাথে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৭ এপ্রিল বুধবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমীর-উল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে কোভিদ ১৯ বিস্তারের কারণে এসএসসি পরীক্ষা ২০২১ এ বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণের সময় বর্ধিত করে নতুন সময় জানিয়ে দেয়া হবে। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার কোন সুযোগ নেই। ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিদ্যালয়গুলোতে অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কঠোর নির্দেশনা আমলে নিচ্ছে না কতিপয় কিছু শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজারে প্রায় বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন খাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বলে জানান অভিভাবকরা।

বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে এবং অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে অধিকাংশ স্কুলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়। ফরম পূরণের ফি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারণ করে দিলেও স্কুলগুলো তার তোয়াক্কা না করে নামে-বেনামে বাড়তি টাকা আদায় করছে। স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলক কোচিংয়ের নামেও টাকা আদায় করা হয়।

জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীস্থ ছনখোলা মডেল হাইস্কুলের ৭ সদস্যের শিক্ষক সিন্ডিকেট বিগত বছর করোনাকালীন সময় হইতে আজ পর্যন্ত নানানভাবে চাপ সৃষ্টি করে মাসিক ফি, এসাইনমেন্ট ফিসহ অন্যান্য তহবিলের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে উক্ত স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি ওই স্কুলের ৭ সদস্য শিক্ষক সিন্ডিকেটের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

উক্ত কথিত শিক্ষক জাকের হোসেন, আরিফুর রহমান, মাহবুল আলম, সাদ্দাম হোসেন, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিগত বছর থেকে এই দুর্যোগকালীন সময়ে স্কুল খোলা রেখে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

স্কুল প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ওই শিক্ষকেরা নানান উপায়ে টাকা আদায় করলেও তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেনি শিক্ষার্থী-অভিভাবক। দেশের চলমান ক্লান্তিলগ্নেও কোন খাতে তারা ছাড় দিচ্ছে না কোন শিক্ষার্থীকে। এবারও ওই শিক্ষক সিন্ডিকেট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

করোনাকালীন সময়ে ফি আদায়ের ব্যাপারে সরকারি বিধি নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তার তোয়াক্কা না করে এবারও এই দুঃসময়ে গরীব অসহায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণসহ অন্যান্য খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধানশিক্ষকের যোগসাজসে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের ফি ও অন্যান্য সহ ৮ হাজার টাকা নিচ্ছে ছনখোলা মডেল হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করলে কোন শিক্ষার্থীকে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এ স্কুলে চালু রয়েছে মানবিক বিভাগ। এবারে এ স্কুল থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, স্কুল কর্তৃক নির্ধারিত ফরম ফিলাপের ৮ হাজার টাকা কিছুতেই যোগাড় করতে পারছিলেন না তার অভিভাবক। একদিকে ফরম ফিলাপের দিন সময়ও শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তাই কোনমতে ৫ হাজার টাকা নিয়ে মা, মামাসহ তারা স্কুলে যান। ২/১ দিনের ভিতরে বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা জানিয়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন হেডমাস্টারকে। সে ৮ হাজার টাকার কমে ফরম ফিলাপ করা যাবেনা বলে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িতে ফিরে যান তারা।

অনন্যপায় হয়ে পরদিন ৮ এপ্রিল ধারদেনা করে ৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করে হেডমাস্টারের হাতে তুলে দিয়ে ফরম ফিলাপ করে সে। কিন্তু তার কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা নিলেও রশিদ দিয়েছে ২৯৫০ টাকার। বাকি টাকার রশিদ চাইলে আর কোন রশিদ দেয়া হবে না বলে দ্রুত বাড়ি চলে যেতে বলেন টিচার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উক্ত স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন খাত দেখিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে গলাকাটা অর্থ আদায় করে যাচ্ছে এই স্কুলে গড়ে উঠা ৪/৫ জনের একটি শিক্ষক সিন্ডিকেট। এছাড়াও বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের দেয়া সাহায্যের মোটা অংকের টাকা স্কুল ফান্ডে জমা না রেখে গোপনে ভাগ বাটোয়ারা করে নিজেদের পকেট ভারী করছে। প্রতিষ্ঠালগ্নে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল অন্য স্কুলের হয়ে। চলিত বছর নিজ স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার সুযোগ হলেও তারা বোর্ডের কোনও নির্দেশনা মানতে নারাজ। নিজেদের নিয়মে মাসিক ফি, পরীক্ষার ফি আর কোচিং ও উন্নয়ন ফি বাবদ মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায় করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে গরীব, মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে ছনখোলা মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সক্রিয় জামাত কর্মী জাকির হোসেন অভিযোগ স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, তাদের স্কুল থেকে পরীক্ষা দেয়া যায় না, অন্য স্কুল হয়ে ফরম ফিলাপ করে পরীক্ষা দিতে হয়। বেতন আদায়ের রশিদ এ উল্লেখ্য ২৯৫০ টাকা জনপ্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য ওই স্কুলে দিতে হয়। বাকি টাকা স্কুল ফান্ডে জমা রাখা হয়।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অব: শিক্ষক মাস্টার অচিয়র রহমান মুঠোফোনে জানান, ফরম ফিলাপ চলছে এটি জানেন কিন্তু ফি বাবদ কত টাকা নিচ্ছে তা বিস্তারিত জানেন না। বিষয়টি গভীরভাবে খোঁজ নিয়ে জানাবেন আর অতিরিক্ত ফি
নিলে ফেরত দেয়া হবে বলে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করেন।
সূত্র জানায়, ছনখোলা মডেল হাই স্কুল (এসএসসি ফরম ফিলাপ ফি, মাসিক, কোচিং ফিসহ ৮ হাজার টাকা), পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয় (৪ হাজার), পিএমখালী আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা (৮ হাজার, মাসিক ফি, কোচিং ফিসহ), বাস টার্মিনাল মহিলা কামিল মাদ্রাসা ( ফরম ফিলাপ ৫ হাজার)। এছাড়াও ,চৌফলদন্ডী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় গোমাতলী উচ্চ বিদ্যালয়, ভারুয়াখালি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, নাদেরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার প্রায় সবগুলো বিদ্যালয়ের ব্যাপারে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এসএসসি ও সমমান পরিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে টাকা নেওয়ার রশিদ না দিয়েই বাড়তি টাকা আদায় করা হয়েছে। বিদ্যালয় নানা খাত দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে শুধুমাত্র রশিদে ফরম ফিলাপ ফি লিখে দেয়া হচ্ছে। আবার কোন কোন বিদ্যালয়ে (বাস টার্মিনাল মহিলা কামিল মাদ্রাসা, পিএমখালী উচ্চ বিদ্যালয়) মোটা অংকের টাকা নিয়ে কোন রশিদও দিচ্ছে না। রশিদ চাইলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রশাসনকে এদিকে কঠোর নজরদারি বাড়ানো দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষা বোর্ডগুলো এসএসসির ফরম পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীপ্রতি ন্যূনতম ফি নির্ধারণ করলেও স্কুলগুলো তিন থেকে সাত গুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করে থাকে। এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তারা।

জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বিজ্ঞান বিভাগে কেন্দ্র ফিসহ ১৯৭০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কেন্দ্র ফিসহ ১৮৫০ টাকা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম ফিলাপ জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কক্সবাজারে অধিকাংশ স্কুল/মাদ্রাসায় অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন বলেন, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি ছাড়া বাড়তি কোন টাকা নেওয়ার সুযোগ নাই। স্কুলে টাকা পরিশোধ করিলে রশিদ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। কেউ সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টাকা নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান সে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Customized BY NewsTheme