1. admin@coxtimes.com : admin :
শিরোনাম :
সচেতনতায় পুলিশ মাঠে…. করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়লেও ঈদগাঁওতে বাড়েনি মানুষের মাঝে সচেতনতা ঈদগাঁওর জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠ পর্যায় ইউএনও ঈদগাঁওর বাঁশঘাটায় তিনটি দোকান সিলগালা বাঁশখালী ছনুয়ার মানুষের যোগাযোগ সড়কের বেহাল দশা অবসানের পথে ইসলামাবা‌দের আ‌লো‌চিত জবর মুল্লুক হত্যা মামলার আসামী‌দের রিমা‌ন্ডে নি‌তে গ‌ড়িম‌সি পু‌লি‌শের ! ঈদগাঁও বাজা‌রে সড়‌কের উপর দোকান নির্মাণ, ভূ‌মি অ‌ফি‌সের নি‌ষেধাজ্ঞা ইসলামের প্রচার-প্রসারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি: শেখ হাসিনা। হ্নীলার দালাল আবছার রোহিঙ্গা নারীসহ বিমানবন্দরে আটক। জনগণের দুর্ভোগ লাগব করতে দ্রুত টেকসই সড়ক উপহার দিবো -কউক চেয়ারম্যান বিষপানে পুত্রবধূ নাসরিনের আত্মহত্যা সাংসদের ওয়ার্ডের রাস্তার ইট বিক্রি করে দিল মেম্বার! ইসলামবাদে (ব্র্যাক)আইন সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

যে সেতু লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য বদলাবে

  • আপডেট টাইম: Monday, April 26, 2021
  • 133 বার পড়া হয়েছে

এম এ সাত্তার, কক্সবাজার;

কক্সবাজার পৌরসভার পূর্ব- উত্তর ঝিলংজা, পিএমখালী ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা বাঁকখালী নদীর উপর একটি সেতু নির্মিত হলে বদলে যাবে সদরস্থ একাধিক উনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য ও জীবন মান আর নানান অপরাধ প্রবণতা। এলাকাটি জেলার সর্ব পশ্চিমের উপজেলা সদর ৮ নং পিএমখালী ও ঝিলংজা, খুরুশকুল ইউনিয়ন বাঁকখালী নদী বেষ্টিত জনপদ।

কক্সবাজার পৌরসভা, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর হাসপাতাল, সদর থানা, পুলিশ সুপার কার্যালয়, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, উপজেলা কার্যালয় সহ স্বনামধন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র দুই/চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৃষি ও মাছে সমৃদ্ধ এলাকাটি পিছিয়ে আছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে। এখানকার বাসিন্দারা প্রধানত দুটি স্থান দিয়ে যাতায়াত করেন। একটি পিএমখালী ছনখোলা সংযোগ রাস্তা, আরেকটি ছনখোলা খেয়াঘাট হয়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় উক্ত এলাকা সমূহের শিক্ষার হার নিম্নমুখী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সময়মতো পৌছাতে পারে না। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে শিক্ষার উন্নতি ও কৃষিতে আসবে আরো সমৃদ্ধি। তদুপরি গড়ে উঠবে সম্ভবনাময় পর্যটন কেন্দ্র।

প্রশ্ন উঠতে পারে, পিএমখালী-ঝিলংজা সেতু নির্মাণ হলে কি কি সুফল পাবেন ককসবাজারবাসী ? বাঁকখালী নদীপাড়ের জনপদ পিএমখালী, ভারুয়াখালী, ঈদগাহ উত্তরাঞ্চল এবং এর সঙ্গে আছে পুরো দক্ষিণ বৃহত্তর ঝিলংজা। শহরের মূল পয়েন্ট যদি আমরা নিউমার্কেটকে ধরি তাহলে সেখান থেকে দূরত্ব মাত্র ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার। একটি সেতুর কারণে এ দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে কখনও এক/দেড় ঘণ্টা, কখনও দুই/আড়াই ঘণ্টা।

বঞ্ছনার এখানেই শেষ নয়। শহরের এত কাছের জনপদ পিএমখালী, খুরুশকুল, ভারুয়াখালী, অথচ এ জনপদ এখনও যেন অজ পাড়াগাঁ। সেতুর একপাশে শহর-নিয়ন বাতির আলো, আরেক পাশে গ্রাম-কুপির আলোয় অন্ধকার দূর করছে মানুষ। অথচ এ জনপদ হতে পারত একটি পরিকল্পিত উপশহর, হতে পারত একটি মডেল টাউন। এ জনপদ হতে পারত একটি পরিকল্পিত শিল্পনগরী। নদী আর পাহাড়ের মিলনস্থলকে ঘিরে হতে পারত দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট।

পৌরসভার এসএমপাড়া এলাকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এখানে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না। দুরে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়তে চাই না। ছনখোলা খেয়াঘাট বাঁকখালী নদীর উপর ব্রিজ হলে ঝিলংজা, পিএমখালী, খুরুশকুল, ভারুয়াখালী, ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রাগৈতিহাসিক যুগ হতে নৌকাযোগে নদী পারাপারে ভূমিকা রেখে আসছিল ছনখোলা-ঝিলংজা পৌরসভার সরকারি ইজারাকৃত খেয়াঘাট। এ হিসেবে দেখা যাচ্ছে ওই ছনখোলা খেয়াঘাটের বর্তমান বয়স প্রায় একশত বছরের অধিক।

পিএমখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা পিএমখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ঠিকাদার মোঃ কেফায়ত উল্লাহ বলেন, ছনখোলা খেয়াঘাট বাঁকখালী নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে স্থানীয় এমপি গত কয়েক দিন আগে ছনখোলা খেয়াঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ব্রিজটি নির্মাণের বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। যে কারণে দ্রুত সময়ে টেন্ডার হবে বলে আশা করছি। কাজটি বাস্তবায়ন করা হলে অবহেলিত এ জনপদের মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।

বর্তমানে উক্ত ঘাটের উপর দিয়ে মানুষের চলাচলের পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে। এর ফলে ঘাটের একপাশ দিয়ে নৌকায় উঠলে আরেকপাশে দাঁড়িয়ে থাকে শতশত মানুষ। এমনকি প্রাকৃতিক আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীর দু’পাশে আটকে পড়ে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।রাত ৯ টার পরে ঘাটের মাঝি পাওয়া যায় না। সেই সাথে ওই ঘাটের মধ্যে দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রাণহানির ঘটনাও একেবারে কম নয়।

বাংলাদেশ কৃষকলীগ পিএমখালী ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তাক আহমদ বলেন, ওই স্থানে সেতু হলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে বিপ্লব হবে। ঈদগাহ,ভারুয়খালী, পিএমখালী, ককসবাজার টাউনের সঙ্গে যোগাযোগ একেবারে সহজ হয়ে যাবে। এতে যাবতীয় কাঁচামাল দ্রুত সরাসরি পৌঁছে যাবে বিভিন্ন স্থানে। আমরা চাই, এদেশের পিছিয়ে থাকা বিস্তির্ণ জনপদের উন্নয়ন ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক।

চেয়ারম্যান মাষ্টার আব্দুর রহিম বলেন, ছনখোলা খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণে করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের মানুষ বিকল্প পথ হিসেবে নৌকা-সাম্পানযোগে ঝুঁকি নিয়ে ছনখোলা খেয়াঘাট পারাপার হতে হয় মানুষকে। বছর না যেতেই ওই ঘাটে নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। গত তিন বছর আগে একসাথে ৩ জন, গতবছর ১ জন নিহত হয়েছে।, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ ছনখোলা খেয়াঘাটের নৌকা ডুবে গেলে একাধিক মানুষ সাঁতরিয়ে কূলে ফিরে যেতে পারলেও ২জন পানিতে তলিয়ে যায়। একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও, অন্যজনকে নিখোঁজের ৪ দিন পরে মহেশখালীর একপ্যারাবনে লাশ পাওয়া যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Customized BY NewsTheme