1. admin@coxtimes.com : admin :
শিরোনাম :
সচেতনতায় পুলিশ মাঠে…. করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়লেও ঈদগাঁওতে বাড়েনি মানুষের মাঝে সচেতনতা ঈদগাঁওর জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠ পর্যায় ইউএনও ঈদগাঁওর বাঁশঘাটায় তিনটি দোকান সিলগালা বাঁশখালী ছনুয়ার মানুষের যোগাযোগ সড়কের বেহাল দশা অবসানের পথে ইসলামাবা‌দের আ‌লো‌চিত জবর মুল্লুক হত্যা মামলার আসামী‌দের রিমা‌ন্ডে নি‌তে গ‌ড়িম‌সি পু‌লি‌শের ! ঈদগাঁও বাজা‌রে সড়‌কের উপর দোকান নির্মাণ, ভূ‌মি অ‌ফি‌সের নি‌ষেধাজ্ঞা ইসলামের প্রচার-প্রসারে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি: শেখ হাসিনা। হ্নীলার দালাল আবছার রোহিঙ্গা নারীসহ বিমানবন্দরে আটক। জনগণের দুর্ভোগ লাগব করতে দ্রুত টেকসই সড়ক উপহার দিবো -কউক চেয়ারম্যান বিষপানে পুত্রবধূ নাসরিনের আত্মহত্যা সাংসদের ওয়ার্ডের রাস্তার ইট বিক্রি করে দিল মেম্বার! ইসলামবাদে (ব্র্যাক)আইন সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঈদগাঁও নদী দখলে ভবন নির্মাণ-ঝুঁকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • আপডেট টাইম: Monday, May 3, 2021
  • 26 বার পড়া হয়েছে

মোঃ কাউছার ঊদ্দীন শরীফ ঈদগাঁওঃ

কক্সবাজার সদর উপজেলার প্রবাহমান ঈদগাঁও নদীর উত্তরপাড়ের বেড়িবাঁধ দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে।
ঈদগাঁও নদীর বেড়িবাঁধ থেকে জলভাগের অভ্যন্তরের অন্তত ৫ফুট জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ঈদগাঁও নদীর( উত্তরপাড়) ঈদগাহ হাই স্কুল পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত বেড়িবাঁধের উপর থেকে নদীর জলভাগের অভ্যন্তরে ৪-৫ ফুট পর্যন্ত নদী দখল করে পাইলিংয়ের কাজ চলছে।

এছাড়াও গত ১৩ই মার্চ বিভিন্ন অনলাইন প্রিন্ট পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের থেকে জানা যায়, ঈদগাঁও নদী দিন দিন দখল হয়ে যাচ্ছে । নদীর দু’পাশে চলছে স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে ময়লা আবর্জনায় দুষিত হয়ে যাচ্ছে নদীর পানি।ঐতিহ্যবাহী প্রবাহমান ঈদগাও নদী রামু উপজেলার ঈদগড থেকে ঈদগাও-ইসলামাবাদ-জালালাবাদ হয়ে পোকখালী অতিক্রম করে মহেশখালী চ্যানেলে সংযুক্ত হয়েছে । এ ঈদগাও নদীর উপর সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি, ক্ষেতখামার,লবনচাষ,মৎসসহ এলাকার লোকজনের জীবন জিবীকা নির্ভর করে । এ নদী কেন্দ্রীক গড়ে উঠে ঈদগড় ও ঈদগাঁও বাজার । সড়ক ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পূর্বে ঈদগড়-বাইশারীসহ পার্বত্য এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য ও যাতায়াত এ নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল । সম্প্রতি এ ঈদগাঁও নদী দখল ও দূষণের কবলে।

ঈদগাও বাসষ্টেশন,বাসঘাটা,ভোমরিয়াঘোনা,পালপাড়া, বাজার এলাকা, হিন্দু পাড়া, চরপাড়া, রাবার ড্যাম এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে স্থাপনা নির্মাণ করে নদী দখলের প্রতিযোগিতা ।

অন্যদিকে ঈদগাও বাসষ্টেশন, বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান , হোটেল রেষ্টুরেন্ট ও হাসপাতালের ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীর পানি দুষিত করছে।ক্রমান্নয়ে এই ঈদগাও নদী দখল ও দূষণের কারণে বিলুপ্তির পথে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল হক বলেন, বন্যা থেকে তার বসতবাড়ি রক্ষার জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে গাইডওয়াল নির্মাণ করছেন।
কিন্তু নদী অভ্যন্তরে কেন এ প্রশ্নের জবাবে জনাব সিরাজুল হক বলেন, নদীভাঙ্গনের ফলে তার বসতবাড়ি কিছু অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই কারণে নদীর জলভাগের অভ্যন্তরের সিকস্তি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তিনি।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন হাইড্রোলজিকাল ইঞ্জিনিয়ার জানান, ঈদগাঁও নদীর উত্তরপাড়ে ঈদগাহ হাই স্কুল পয়েন্টের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়ীবাঁধের অভ্যন্তরে সীমানাপ্রাচীর করা হলে বর্ষামৌসুমে পাহাড়ী ঢলে ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে ওই অংশটি। এর ফলে নদীভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়বে ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ হাই স্কুল”সহ পূরো ঈদগাহবাজারের বেশিরভাগ অংশ।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম জানান,ঈদগাহ হাই স্কুলকে ক্রমাগত নদীভাঙ্গনে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে ২০০৭ সালে আমার উদ্যোগে এবং এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হকের সার্বিক সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৭৪ লক্ষ্য টাকা ব্যয় করে ব্লক বসিয়ে প্রায় ৫শ ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি নির্মাণ করে। সেখানে এই বেড়িবাঁধ দখল চরম লজ্জার এবং নীতিহীনতার পরিচয় বলে তিনি ধিক্কার জানান।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদর উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক রেজাউল করিমের সাথে কথা হলে দখল ও দূষণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঈদগাও নদীর সাথে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা উৎপ্রোতভাবে জড়িত । এক সময় এ নদী মৎস্যভান্ডারে ভরপুর ছিল , কিন্তু বর্তমানে নদীর এ দুরাবস্থায় এলাকাবাসী চরম হতাশাগ্রস্থ ।

ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক ব্যবসায়ী হাসান তারেক জানান, বিশেষ করে ঈদগাও পালপাড়া থেকে রাবার ড্যাম এলাকায় আশংকাজনক হারে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে । সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে নদী রক্ষা করা যাবে।

বাংলাদেশ পানি আইন ২০১৩, ২১ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়িত্ব রক্ষার স্বার্থে উহার উপর বা উহার পার্শ্বঢালে কোন ব্যক্তি, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত, কোন প্রকার ঘরবাড়ি, স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করিতে পারিবেন না।
এই ধারা লংঘনে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং দশ হাজারে টাকার জরিমানা আদায়ের দণ্ড থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন এই নদী খালগুলি দূর্বৃত্তের দখল ও দূষণের শিকার হয়ে অস্তিত্বসংকটের মুখে পড়ছে ক্রমাগত।

ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জন্নাতের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্থ করেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার সুইটি জানান,দখলবাজদের অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে।কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নু এ মং মার্মার মং জানান যেখানে খাল-ডোবা দখল করে স্থাপনা তোলার অভিযোগ পাওয়া যায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে সব দখলদার উচ্ছেদ করে সরকারি জলাধার রক্ষা করা হবে।কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মঈনুল হকে জানান, বিষয়টি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ দখলের এখতিয়ার কারো নেই এবং পানি বোর্ড বেড়িবাঁধের কোন অংশ কাউকে ব্যবহার বা দখলের অনুমতি দেয়নি বা দিতে পারেনা। তিনি ঈদগাহ নদীর বেড়িবাঁধ দখলরোধে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এলাকার লোকজন জানান,এ বিষয়ে আমরা অনেক সময় অনেক বার পরিবেশ অধিদপ্তরে জানিয়েছি কাজের কাজ কিছুই হয়নি চলছে পুরোদমে নদী দখল । সচেতন মহল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদী রক্ষায়। অন্যথায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Customized BY NewsTheme